Tuesday, November 14, 2017

বগুড়া নাটোর জেলার নাগর নদ এখন মরা খাল




নাগর নদ, আলোকচিত্র: মো আশিক হাসান
নাগর নদ বা নাগর লোয়ার নদী বাংলাদেশের একটি নদী। এটি আত্রাই উপজেলা এবং সিংড়া উপজেলার সীমানা চিহ্নিত করে প্রবাহিত হয়েছে। নাটোর জেলায় এই নদীর দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার।[১] বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক নাগর লোয়ার নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৬৬।[২] 

প্রবাহ: এই নদী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকায় প্রবহমান করতোয়া (নীলফামারী) নদী থেকে উৎপন্ন হয়েছে। অতপর এই নদীর প্রবাহ নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার পৌরসভা পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে আত্রাই (নওগাঁ-নাটোর) নদীর জলধারায় পতিত হয়েছে।[৩] 

বর্তমান অবস্থা: দুপচাঁচিয়ায় দীর্ঘদিন খনন ও সংস্কার না করায় ঐতিহ্যবাহী নাগর নদ মরা খালে পরিণত হয়েছেফলে আশপাশের জনগণের জমিতে সেচ ও প্রত্যহিক কাজে পানির অভাব দেখা দিয়েছেমাছ না থাকায় অনেক জেলে পরিবার বেকার। অনেক সাধারণ কৃষকরা শাকসবজি চাষাবাদ ও বীজতলা তৈরি করছেন। ভুক্তভোগীরা নদটি খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেনউপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, আশির দশক পর্যন্ত এ নদী পথে বড় বড় পাল তোলা নৌকায় দেশের  বিভিন্ন স্থানে মালামাল পরিবহণ করা হতোনদের দুইপা শের জমিতে  সেচ দেয়া ছাড়াও আশপাশেশর জনগণ পানিতে গোসল ও  অন্যান্য কাজ করত। এলাকার অনেকে এ নদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নদটি নাব্যতা হারিয়েছে জৌলুসপূর্ণ নাগর নদ আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে শুধু  বর্ষা মউসুমে পানি থাকেপানি বেশি হলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যা হয়। দুপচাঁচিয়া বাজারের প্রবীণ ব্যক্তি শ্যাম সুন্দর আগরওয়ালা, ডা. আনোয়ার হোসেন,  সন্তোষ চৌধুরী, তালোড়া বাজারের পূর্ণমাসী রাজভর, দোগাছি গ্রামের তমজেদ সরদার জানান, আশির দশক পর্যন্ত দুপচাঁচিয়া তেমাথা বাজার ঘাট, ধাপ সুলতানগর ঘাট ও তালোড়া দেওগ্রাম রাস্তায় নাগর নদের সীতার ঘাটে বড় বড় পালতোলা নৌকা সব সময় বিভিন্ন মালামাল উঠানাম করতে দেখ যেত।  কিন্তু বর্তমানে পানি শূন্য নাগর নদের করুন দশা। হাঁটু পানি তো দূরে থাক, কোনো কোনো স্থানে নদের তলদেশে পায়ের গোড়ালিও ভেজে না। বর্তমান নাগর নদের তীরবর্তী অনেক কৃষকগণ ফসল,  শাকসবজি ও বীজতলা তৈরির জন্য খননের মাধ্যমে নাগর নদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।[৪] 

তথ্যসূত্র:
১. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ২৪০।
. মোহাম্মদ রাজ্জাক, মানিক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী"। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ: ১৩২।
. পূর্বোক্ত, পৃ: ১৩২।
. বগুড়া ব্যুরো; ২ জানুয়ারি, ২০১০, দৈনিক যুগান্তর, আজকের ফিচার

Wednesday, October 07, 2015

সজনে একটি বহুল পরিচিত উপকারি বৃক্ষ




সজনা বা সজনে ও পাতা
বৈজ্ঞানিক নাম: Moringa oleifera
সাধারণ নাম: drumstick tree বা horseradish tree বা ben oil tree বা benzoil tree
বাংলা নাম: সজনে বা সজনা বা সাজিনা

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Angiosperms
অবিন্যাসিত: Eudicots
অবিন্যাসিত: Rosids
বর্গ: Brassicales
গোত্র: Moringaceae
গণ: Moringa
প্রজাতি: Moringa oleifera
বর্ণনা: সজনে বা সজনা বা সাজিনা (ইংরেজি: drumstick tree বা horseradish tree বা ben oil tree বা benzoil tree) (বৈজ্ঞানিক নাম: Moringa oleifera) হচ্ছে বৃক্ষ জাতীয় গাছ। সজনা আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত বৃক্ষ, যার কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সাধারণত এ গাছের উচ্চতা ৭.৬০ থেকে ১০.৬০ মিটার বা তারও বেশি হয়ে থাকে। সজনা গাছের কাঠ অত্যন্ত নরম, বাকলা আঠাযুক্ত ও কর্কি। এর পাতা ৩০.৪৮ থেকে ৬০.৯০ সেমি লম্বা, ত্রিপক্ষল যৌগিক, উপপত্রহীন, একান্তর, পত্রক ৪-৭ জোড়া, ত্রিমুখী। মঞ্জুরি কাক্ষিক রেসিম। পুষ্প সাদা এক প্রতিসম এবং উভলিঙ্গ। এর ফল ৩১ থেকে ৩৮ সেমি লম্বা, দোলনরত, ক্যাপসিউল বীজ পক্ষল। সজিনা তিন প্রকারের হয়ে থাকে; নীল, শ্বেত ও রক্ত সজিনা।
ব্যবহার্য অংশ: মূল, ছাল, পাতা, ফুল ও ফল, বীজ এবং কষ।
ব্যবহার: এটির শাক হিসেবে ব্যবহৃত পাতা ভিটামিন এ-এর এক বিশাল উৎস। সজনের পাতা এবং ফল উভয়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণে পুষ্টি আছে। এতসব পুষ্টিগুণ একসাথে আছে বলেই এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জীবন ধারনের পুষ্টি দুটোই পাওয়া যায়। আফ্রিকায় সজনে সাফল্যের পেছনে এটাই মূল কারণ। দুয়েকটি নির্দিষ্ট ভিটামিন বা মিনারেল নয়; বরং বহু ধরনের ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের সমাহার এই সজনে।
সজিনা পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে। পাতা কেটে ফোঁড়া বা টিউমারে দিলে উপকার পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গে সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়।
সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শোথে, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, সজিনা ডাঁটা অ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ, যা দেহের পাশাপাশি বাতের জন্যও খুব উপকারী। সজিনা বীজের তেল আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায় না। একে 'বেন অয়েল' বলে। এটি ঘড়ি মেরামতের কাজে লাগে। বাতের ব্যথায় তা ভালো কাজ দেয়। কুষ্ঠ রোগে বীজের তেল অথবা বীজের তেলের অভাবে বীজ বেটে প্রলেপ দিলে উপকার হয়। সজিনা মূল ও বীজ সাপে কামড়ানোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া মূলের ছালের প্রলেপে দাদ উপশম হয়। বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। দেশের সর্বত্রই সাজনা পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে এ বৃক্ষটি। সাজনার ফুল ও পাতা শুধু শাক হিসেবেই নয়, পশু খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে।
সাজনার ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভালো কারণ এটি বসন্ত প্রতিষেধক। এটি সর্দি কাশিতে, যকৃতের কার্যকারিতায়, কৃমি প্রতিরোধে, শক্তি বৃদ্ধিতে ফলদায়ক। এর ডাঁটা বা ফলে প্রচুর এমাইনো এসিড আছে। এটি বাত রোগীদের জন্য ভালো। সাজনার বীজ থেকে তেলও পাওয়া যায়, যা বাতের ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে এবং ঘড়ি ঠিক করার জন্য যে বেল ওয়েল ব্যবহার হয় তা এর বীজ হতে পাওয়া যায়।
সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়। স্বাদে ও গুণে ভরপুর সজিনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা লাভজনক। কারণ অন্যান্য সবজির মতো এর উৎপাদনে তেমন ঝুঁকি নেই এবং লাভজনক।
বিস্তার ও চাষাবাদ: সজিনা বাংলাদেশের সর্বত্র, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে সবজি গাছ হিসেবে লাগানো হয়। এর পাতা অগ্রহায়ণ-মাঘ মাসে হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে এবং মাঘ-ফাল্গুনে থোকা থোকা সাদা ফুল প্রায় পত্রশূন্য গাছ ছেয়ে থাকে। চৈত্র-আষাঢ় মাসের মধ্যে ফল পাকে। ফলের মধ্যে ত্রিকোনাকার অনেক বীজ হয়। বীজ অথবা কাটা ডাল (কাটিং) দিয়ে বংশবিস্তার সম্ভব। কাটিং মাটি ও গোবর (৩:১) মিশ্রিত কাটিং তলায় অথবা পলিথিন ব্যাগে একটু কাত করে লাগাতে হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি দিতে হয়। শেকড় গজালে শেকড়সহ কাটিং পলিথিন ব্যাগে অথবা সরাসরি মাঠে লাগানো যায়।
সাজনা চরম পরিবেশগত অবস্থা সহ্য করতে সক্ষম। তবে ২০ হতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো জন্মায় এবং যেসব এলাকায় ২৫০ থেকে ১৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় সেখানে ভালো জন্মায়। মাটি বেলে দোঁআশ থেকে দোঁয়াশ এবং পিএইচ ৫.০ থেকে ৯.০ সম্পন্ন মাটি সহ্য করতে পারে। সজিনা চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। কারণ সজনার বিস্তৃত ও গভীর শিকড় রয়েছে। তবে ইউরিয়া এবং জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছ ভালো হয়। এ বৃক্ষটি বীজ ও ডালের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষাবাদের রীতি এখনো অনুসরণ করা হয় না। কারণ বীজ থেকে চারা তৈরি ব্যয়বহুল। বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে এপ্রিল-মে মাসে গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করতে হবে, তারপর সেটিকে শুকিয়ে ফাটলে বীজ পাওয়া যাবে। এ বীজ শুকনো বায়ুরোধী পাত্রে ১-৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। তার পর জুলাই-আগস্টে বীজতলায় অথবা পলি ব্যাগে বপন করতে পারি। বীজ বপনের আগে বীজগুলোকে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে বীজ থেকে চারা গজাতে সুবিধা হয়। বীজ থেকে চারা বের হতে সময় লাগে ১০ থেকে ২০ দিন। চারা বের হওয়ার পর নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য যত্ন পরিচর্যা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, বীজ থেকে সজিনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডাল পুঁতে অঙ্গজ বংশবিস্তারের চেয়ে দেরিতে ফল আসে। আমাদের দেশে ডাল পুঁতে অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহৃত হয়। তার কারণ হলো, এটি করতে তেমন দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। আর খরচও কম, অঙ্গজ বংশবিস্তারের জন্য ৪-৫ ব্যাসের বা বেডের ৫-৬ হাত লম্বা নিরোগ ডাল এবং আঘাতমুক্ত ডাল ব্যবহার করা ভালো। নতুন লাগানো গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শীঘ্রই শিকড় গজাতে পারে। শুষ্ক ও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় দুই মাস সেচ দিতে হবে। তবে সাজনার গাছ একবার লেগে গেলে তেমন পানির প্রয়োজন হয় না। সজিনার গাছে তুলনামূলক কীট-পতঙ্গ ও রোগ সহনশীলভাবে মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যেমন জলাবদ্ধ মাটিতে শিকড় পচা রোগ দেখা দিতে পারে এর কারণ ডিপ্লোডিয়া। কীট-পতঙ্গ শুষ্ক ও ঠাণ্ডায় বেশি আক্রমণ করে। কীট-পতঙ্গ দ্বারা গাছে হলুদ রোগ দেখা যায়। কীট-পতঙ্গের মধ্যে টারমাইটস, এফিড, সাদা মাছি প্রধান। 

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

Thursday, August 20, 2015

ব্রহ্মপুত্র এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী




ধুবড়ী জেলার যোগমায়া ঘাট থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ
ব্রহ্মপুত্র নদ বা ব্রহ্মপুত্র নদী এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। সংস্কৃত ভাষায় ব্রহ্মপুত্রের অর্থ হচ্ছে ব্রহ্মার পুত্র। ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব নাম ছিল লৌহিত্য। আবার তিব্বতে তা জাঙপো নামে পরিচিত, এবং আসামে তার নাম দিহাঙ
ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট জিমা ইয়ংজং হিমবাহে, যা তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। জাঙপো নামে তিব্বতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে এটি অরুণাচল প্রদেশে ভারতে প্রবেশ করে যখন এর নাম হয়ে যায় সিয়ং। তারপর আসামের উপর দিয়ে দিহাঙ নামে বয়ে যাবার সময় এতে দিবং এবং লোহিত নামে আরো দুটি বড় নদী যোগ দেয় এবং তখন সমতলে এসে চওড়া হয়ে এর নাম হয় ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্র হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পড়েছে।
১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত দিক পরিবর্তিত হয়ে যমুনা নদী হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৮৫০ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র নদের সর্বাধিক প্রস্থ ১০৪২৬ মিটার (বাহাদুরাবাদ)। এটিই বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা হচ্ছে যমুনাএক কালের প্রশস্ত ব্রহ্মপুত্র নদ বর্তমানে শীর্ণকায়।

আরো পড়ুন:

. বাঙলার নদীগুলো মারা যায় যেসব কারণে

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ


Advertisement